লিলিঅতিপ্রাকৃত

লিলি — পর্ব ১

ইয়াছিন নাইম৩০ আগস্ট ২০২৫৬ মিনিট পড়া

ঝিঁ ঝিঁ পোকার ক্রমাগত শব্দ। শীতের রাতের অন্ধকার যেন পরিবেশকে আরো শীতল করে তোলে। আর ঠিক এমনি সময়ে বহুতল ভবনের কোন একটা তলার একটা অন্ধকার কক্ষে কিছু ভেঙে পড়ার শব্দ শোনা গেল। ফুলের টবটা ভেঙে ছড়িয়ে পড়েছে ঘরের সারা মেঝেতে। অগোছালো ঘরে জানলা দিয়ে চাঁদের আলো প্রবেশ করার ফলে একজন যুবককে দেখা গেল যে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে মাথা নিচু করে মেঝেতে বসে আছে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা কিন্তু পরনে শুধু একটা থ্রি কোয়াটার প্যান্ট। তার সারা শরীর থেকে থেকে কেঁপে উঠছে। তবে তার জন্য অবশ্য শীতের ঠাণ্ডাকে একাকী দোষারোপ করাটা ভুল হবে। হঠাৎ যুবকটির হাতে কিছু একটা চকমক করে উঠল; একটা সিরিঞ্জ। তারপর সেটির সুঁচালো অংশটা বাম হাতে ঢুকিয়ে একটা পদার্থ প্রবেশ করালো নিজের শরীরে। ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে গেল তার শরীরটা। চোখ দুটো খোলা। কয়েকবার দুর্বলভাবে নড়ে উঠল চোখের পাতাগুলো। তারপর বুজে গেল।

কতক্ষণ কাটল কে জানে। যুবকটি এবার শুনতে পেল বহুদূর থেকে যেন কেউ তার নাম ধরে ডাকছে। ক্রমশ সেই গলার স্বর স্পষ্ট হতে শুরু করল, "জে, জে! শুনতে পাচ্ছো? জে?"

যুবকটি চেতনায় ফিরে এল কিনা বিশেষ বোঝা গেল না। শুধু তাকে একবার হাসতে দেখা গেল এবং বলতে শোনা গেল, "লিলি!"। তারপর আবারো হুঁশ হারালো সে।

সকাল। সময় দশটার কাছাকাছি। এমন সময় ঘুম ভাঙল যুবকটির। সে তার বিছানায় শুয়ে আছে। ভালো করে আশেপাশে তাকাতেই বুঝতে পারল তার অগোছালো ঘর আর অগোছালো নেই। সব সুসজ্জিত। বইগুলো সব বইয়ের তাকে। কাপড়গুলো এদিকে-সেদিকে ছড়ানো অবস্থায় আর নেই। ভাঁজ করে সস্থানে রাখা হয়েছে। দেয়ালের কোণায় কোণায় জমে থাকা মাকড়সার জালগুলো আপাতত গায়েব। আর কিছু সতেজ ফুল দেখা গেল একটা ফুলদানিতে; হুবহু ভাঙা ফুলদানিটার মত তবে নতুন।

এতক্ষণে লিলি দরজা দিয়ে প্রবেশ করল। জে-কে সজাগ অবস্থায় দেখতে পেয়ে লিলির নীল চোখগুলোতে পানিতে পড়া সূর্যের রশ্মির মত এক সেকেণ্ডের জন্য জ্বলজ্বল করে উঠল। তারপর বলল, "জে, কেমন লাগছে এখন?"।

জে-এর দৃষ্টি শীতল। মুখে কোনো উত্তেজনা নেই। শান্ত ভঙ্গিতে বলল, "ভালো।"

- আমি তো তোমাকে এ অবস্থায় দেখে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। দুইদিন টানা অচেতন ছিলে তুমি।

- দুই দিন?

- হুম।

দু'দিন ধরে বেহুঁশ হওয়ার বিষয়টায় বিরক্ত বোধ করল জে। তারপর প্রশ্ন করল, "তুমি ঘরে ঢুকলে কীভাবে? আশা করি, তুমি আমার দরজার বিশেষ কোনো ক্ষতি করোনি।"

"দরজা তো খোলাই ছিল," লিলির উত্তর।

"দরজা খোলা ছিল?", নিজের প্রশ্নে যেন নিজেই আবারো বিরক্ত হল জে।

- তোমাকে বেশ দুর্বল দেখাচ্ছে। কিছু খাবে?

- সিরিঞ্জ আর কাঁচের বোতলটা কী করেছো?

- সব কিছুই রয়েছে জে। আপাতত তোমার কিছু খাওয়াটা বোধ হয় ঠিক হবে।

জে একবার বাম পাশের জানালার দিকে তাকিয়ে বাইরের পরিবেশটা দেখে নিল। নয় তলার উপর থেকে যে দৃশ্য দেখা যায় সত্যিই তা উপভোগকর, কিন্তু জে-এর জন্য সে দৃশ্য কতটা মনোরোঞ্জক হল তা বোঝা কষ্টের ব্যাপার। তার বডি ল্যাংগুয়েজ উপলদ্ধি করার জন্য রীতিমতো গবেষণার দরকার।

"তোমার ইচ্ছা", কথাটি শুনে লিলি রান্নাঘরে চলে গেল এবং কিচ্ছুক্ষণ পরেই ফিরে এল। ট্রেতে করে আনা খাবারগুলো বিছানার উপরই রাখার নির্দেশ দিল জে। তারপর দু'আঙ্গুল দিয়ে এক টুকরো আপেল মুখে পুরে দিল সে।

লিলিকে বলতে শোনা গেল, "কষ্ট করে চামচটা ব্যবহার কর, জে। আমি চাইনা তুমি আবার অসুস্থ হয়ে পড়।"

"এতদ্রুত খাবার রেডি করলে কীভাবে?", জে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল।

"তোমার জেগে উঠার হাইয়ার পসিব্যালিটি ছিল সেজন্য," লিলির উত্তরে জে-এর মুখে হাসির রেখা দেখা দিল এবং সে বলল, "ইউ হ্যাভেন্ট চেঞ্জড।"

তারপর একটু থেমে পরক্ষণেই আবার বলে উঠল, "যুদ্ধ শেষ?"

"হ্যাঁ," লিলির সংক্ষিপ্ত উত্তর।

"বিস্তারিতভাবে বলো," জে-এর কণ্ঠে দৃঢ়তা।

"আমরা যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়েও বেশী কঠিন ছিল রণাঙ্গন। তবে মাস্টার রে আগে থেকেই সব দেখতে পেয়েছিলেন সেজন্য আমাকে তোমার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনটা আগে থেকেই বোধ করেছিলেন। এমনকি আমাদের না বলা সত্ত্বেও তিনি নিজেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিন বছরের টানা যুদ্ধে শেষমেষ বিজয়টা আমাদেরই এসেছে। দলের সবাই জীবিত যদিও ডাবিন গুরুতরভাবে আহত হয়েছিল। এখনো তার চিকিৎসা চলছে," টানা বলে লিলি থামল।

- আমার ঠিকানা পেলে কীভাবে?

- যুদ্ধ শেষে মাস্টার রে আমাকে দ্রুত তোমার কাছে ফিরে যাওয়ার আদেশ দেন এবং তোমার এই নতুন ঠিকানাটা তিনিই দিয়েছেন।

- হুম। তাহলে আমার সন্দহটা ঠিকই ছিল। আমার ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

লিলিকে মৃদু হাসতে দেখা গেল। বলল, "তোমার কী আর কিছু দরকার, জে?"

"নাহ্, আপাতত তুমি নিজের খেয়াল নাও। রোদের তাপে কালো হয়ে গিয়েছো। ভিক্টরিটা ঠিকমতো সেলিব্রেট না করেই চলে এসছো তাতে সন্দেহ নেই। যাও। একা থাকতে দাও আমাকে আপাতত।"

লিলি ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় জে-এর লিলির নাম ধরে ডেকে বলল, "ওয়েলকাম ব্যাক, লিলি।"

লিলির মুখে বিস্তৃত এক হাসি দেখা গেল যেটা গত তিন বছর জে দেখতে পায়নি। এই একটা হাসি যেন তার মাঝে নতুন করে আবারো সৌন্দর্য বোধের ইন্দ্রিয়টিকে সষ্ক্রিয় করে তুললো।

তিনদিন পর বিকালে জানলার দিকে মুখ করে জে ঢাকা শহরের ছোটোখাটো অট্টলিকার স্তূপের সৌন্দর্য দেখছিল একটা বড়সড় মাপের আরামদায়ক সোফাতে বসে। লিলি কক্ষে প্রবেশ করে চায়ের কাপটি এগিয়ে দিল জে-এর দিকে। সংক্ষিপ্ত একটি ধন্যবাদ জানিয়ে জে চায়ের কাপে মনোযোগ দিল। তারপর বলল, "নষ্ট করে ফেলেছো?"

প্রশ্নের উত্তরে লিলি জানাল, "হ্যাঁ। ড্রাগ আর সিরিঞ্জগুলো সব নষ্ট করে ফেলেছি।"

- গুড।

- ড্রাগটা হাতে কীভবে পেলে সেটা তো বললে না? কিনেছো?

- নাহ। একজন লোকের কাছে পেয়েছি। সম্ভবত বিজ্ঞানী ছিল। মনে হয় এখনো ড্রাগটা পুরোপুরিভাবে তৈরি হয়নি। গবেষণা চলছিল।

- কিন্তু একটা অনাবিষ্কৃত ড্রাগ কেন একজন বিজ্ঞানী তোমাকে দিলেন?

- দেয়নি, লিলি। আই কিলড হিম।

- কিন্তু কেন?

- বড় কাহিনী। পরে বলব।

- এই তিন বছরে কতজনকে মেরেছো?

- ডজনখানেক। তুমি?

- প্রায় কয়েকশো...আজও একজনের প্রাণ নেওয়ার আদেশ এসেছে।

এবার জে লিলির দিকে মুখ তুলে তাকাল। তার মুখটা শান্ত। লিলির ডান হাতটা দু'হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল, "আমি জানি তোমার উপর দিয়ে অনেক কিছু বয়ে গিয়েছে, লিলি। কিন্তু সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি আর তোমাকে কোথাও যেতে দিচ্ছি না। রে তোমাকে আমার কাছে উপহারস্বরূপ দিয়েছিল অর্থাৎ আমি ঠিক করব তুমি কোথায় যাবে নাকি যাবে না।"

"ছোট্টো একটা কাজ, জে। আমি যাব আর আসবো। তারপর রাতের খাবারটাও তো রান্না করতে হবে," জে-এর চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল লিলি।

"আই হ্যাভ আ স্মল রিকোয়েস্ট। আমাকে তোমার সাথে নিয়ে চল," জে বলল।

লিলির জে-কে সাথে নেওয়ার কোনো ইচ্ছাই ছিল না। এমনিতেই জে অসুস্থ। পুরোপুরিভাবে সেরে ওঠেনি কিন্তু বাচ্চাদের মত আবদার করে বসায় লিলি না বলতে পারল না।

সূর্য ডুবে অন্ধকার হয়ে গিয়েছে। টার্গেট বিকালে হাঁটাহাঁটির পর তার বাড়ির দিকে ফিরে চলেছে। রাস্তার দু'পাশের বাতি এখনো জ্বলে ওঠেনি। জে নিজের গায়ের কালো হুডিটি খুলে লিলির দিকে ছুঁড়ে দিয়ে বলল, "আমি মিস করলে তুমি শেষ করবে।"

লিলি জে-এর হাত টেনে ধরে তাকে বাধা দিয়ে বলল, "এটা আমার কাজ, জে। তোমাকে কোনোপ্রকার ঝুঁকিতে আমি ফেলতে পারবো না। তোমার কী মনে হয় যুদ্ধে সবাইকে নেওয়া হলেও তোমাকে নেওয়া হয়নি কেন?"

"আমি বিশেষ কোনো কাজে আসতাম না বলে?", বিদ্রুপের সুরে জে বলল।

"কারণ ভবিষ্যতে তুমি মাস্টার রে-এর জায়গা নিতে চলেছো, জে।" লিলির কথায় জে স্থির হয়ে গেল। হুডিটা জে-কে ফেরত দিয়ে লিলি বলল, "প্লিজ, বাড়ি ফিরে যাও। তোমাকে বেশীক্ষণ একা থাকতে হবে না। প্রমিজ।"

জে ঘরে ফিরে এল। ঘণ্টাখানেক বাদে লিলি ঘরে ফিরে এসে দেখল জে রান্না করছে।

"হে!", জে বলল।

"হে..। কী রান্না করছো?", লিলির প্রশ্ন।

- ফ্রিজে কিছু চিংড়িমাছ ছিল, ভাবলাম ফ্রাইড রাইস করি। ইউ লাইক ফ্রাইড রাইস এজ্ মাচ এজ্ আই রিমেমবার।"

- হুম.. ইয়েপ, আই ডু।

- সব ঠিকঠাক?

- হ্যাঁ, সব ঠিকঠাক।

- ছিটেফোঁটা রক্তের দাগ দেখা যাচ্ছে তোমার কাপড়ের উপর। ফ্রেশ হয়ে নাও, লিলি। খাবার রেডি হয়ে যাবে ততক্ষণে।

লিলি ছোটো করে একটা ওকে বলে চলে গেল।

লিলি ফিরে এসে দেখতে পেল জে খাবার সাজিয়ে টেবিলে বসে আছে। লিলি খাবারের জন্য বসলে জে সবকিছু এগিয়ে দিতে লাগল দেখে লিলি একটু বিরক্ত বোধ করে বলল, "ইট'স মাই জব, জে। কী হয়েছে তোমার?"

জে একটু হাসার চেষ্টা করে বলল, "নাথিং।

"তুমি কিছু লুকাচ্ছো জে। তুমি ড্রাগ নিচ্ছো। পরিবার

ছেড়ে একা একা থাকছো। হোয়াট'স রং উইথ ইউ? প্লিজ, আমাকে বল," লিলির সুরে প্রবল কৌতূহল।

লিলির প্লেটে চামচ দিয়ে খাবার বেড়ে দিতে দিতে জে বলল, "প্রধানত তুমি যাওয়ার পরে আমি একা হয়ে পড়ি। তাছাড়া মানুষের সাথে আমি ভালো মিশতে পারিনা। বন্ধুও নেই। একেবারে নেই বললে ভুল হবে, কিন্তু তাতে কেউ কিছু মনে করবে না। তারপর একা থাকতে থাকতে মানুষের মাঝে থাকাটা বেশ কষ্টকর হয়ে উঠল একসময়। কিছু টাকা ছিল। এই ফ্লাটটা কিনে ফেললাম। সব বাদ দিয়ে একা থাকতে শুরু করলাম। ইট'স নট ব্যাড আফটার অল। কিন্তু...কিন্তু তোমাকে ফিরে পেয়ে আই যাস্ট ফিল লাইক টু লিভ লাইভলি।"

"ছোটো বাচ্চাদের মত কথা বলছো। চেঞ্জ ইউরসেলফ। না হলে মাস্টার রে-এর জায়গা অন্য কেউ দখল করে নেবে," হাসতে হাসতে বলল লিলি।

"ইউ নো লিলি, আই ডোন্ট লাইক মাচ চেঞ্জেস। তাছাড়া আপাতত তোমাকে ফিরে পেয়েই বেশ খুশি আমি।"

লিলির হাস্যোজ্জ্বল মুখটা যেন আজ চাঁদকেও হার মানাবে বলে মনে হল জে-এর কাছে। এদিকে লিলিকে বলতে শোনা গেল, "সকালের নাস্তায় কী খাবে, জে?"

[এই গল্পটি আমি লিখিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বললেন, আমি যেন এই গল্পটি পোস্ট করি। তাই দিলাম। বাকি পর্বগুলো আমিই পোস্ট করব। তবে আমি লিখব না।]

পর্ব শেষ
ইয়াছিন নাইম

লেখা

ভৌতিক ও অতিপ্রাকৃত ধারাবাহিক গল্পের লেখক

ফেসবুকে মূল পোস্ট

সব পর্ব দেখুন

আরও গল্প

এই সিরিজের বাইরে, একই স্বাদের

সব গল্প
মিষ্টির দোকান

মিষ্টির দোকান — পর্ব ৭

(An Original Story by Yeasin Nayeem) বড়ো হুজুরের মৃত্যুর সংবাদ শুনে আমি হতবাক হয়ে গেলাম। একটু আগে আমি তাঁর সাথে কথা বলে এসেছি। তিনি আমাকে কত ভালোভালো কথা বলেছেন। আর এখন শুনছি বড়ো হুজুর নেই! তাহলে আমি যার সাথে কথা…

২০ অক্টোবর ২০২৬৭ মিনিট পড়া
ফিচার্ড
মিষ্টির দোকান

মিষ্টির দোকান — পর্ব ৬

আমাদের বাড়ি নিয়ে নতুন একটা গুজব ছড়িয়েছে। এমনিতেই লোকে বলত বাড়িতে নাকি জিন আসে। এখন আরেকটা যুক্ত হয়েছে। আগে অন্তত দিনের বেলা লোকজন এদিকে আসত। এখন সেটাও হয় না। দুপুরের কড়া রোদেও কেউ আসতে চায় না। আব্বার দোকানে মাঝেমাঝে খদ্দেররা আস…

১৯ অক্টোবর ২০২৬৫ মিনিট পড়া
মিষ্টির দোকান

মিষ্টির দোকান — পর্ব ৫

আমার দিকে ঘুরে তাকালো নূর ইসলাম ভাই। তখনও তার দুই হাতে কাচা গোবর লেগে আছে। জিহ্বা দিয়ে হাত চাটতে চাটতে উঠে দাঁড়ালো। এই প্রথম তার চোখের এমন অস্বাভাবিক রং দেখলাম। আমার নিঃশ্বাস দ্রুত উঠানামা করতে লাগলো। কপাল ভালো আগেভাগে বেড়ার পেছনে নিজেকে…

১৮ অক্টোবর ২০২৬৪ মিনিট পড়া