ডেথ ডে কাউন্টার — পর্ব ৯
ইয়াছিন নাইম৩ অক্টোবর ২০২৫৮ মিনিট পড়াওদের কারোর নাম নেই। একজন আরেকজনকে কেমন যেন শব্দ করে ডাকে। অনেকটা দাঁত খিঁচিয়ে ভেঙচি দেওয়ার মতো। কথা বলে অন্য ভাষায়। বোঝার উপায় নেই। তবে দলপতি আমার সাথে বাংলায় কথা বলেছেন। জানিয়েছেন এক বিস্ময়কর কথা, যা আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। পারছিই না। কিছুতেই না। ঘোরলাগা অবস্থার মধ্যে আটকা পড়ে আছি আমি। চারপাশে জোবেন গোষ্ঠীর দলবল। সামনে প্রায় তিন হাত দূরে নতজানু হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন দলপতি। তাঁর মাথার মুকুট আমার পায়ের কাছে রেখে দিয়েছেন তিনি৷ কেন রেখেছেন, বলছি, শুনুন।
দলপতি বলেছেন, তিন যুগেরও বেশি আগে তাঁদের জাতিগোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা দুই কোটিরও বেশি ছিল। ওরা সবাই মানুষের ভীড়ে মানুষের মতো বসবাস করত; শুধু বছরের তিনটি বিশেষ দিনে এক জায়গায় একত্রিত হত। সেই তিনটি দিন রাজসভা চলত৷ সবার সুখ-দুঃখের কথা শোনা হত। কেউ দোষ করলে ওইদিন বিচার করা হত। বিচারকের এবং রাজার আসনে যাকে শ্রদ্ধাভরে মান্য করা হত, সেই মহামান্য মহারাজা একদিন সবার সামনে ঘোষণা দিলেন, তাঁর কিছু হয়ে গেলে মহারানীর পেটে যে সন্তান বড়ো হচ্ছে সে-ই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে। সেদিন রাতেই তিনি মারা যান। তারপর থেকে মহারানী রাজার জায়গায় বসলেন৷ তখন তিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এর ঠিক দু'মাস পর তার ঘরে এক শিশু সন্তান জন্ম নিল। তবে শিশুটি ছেলে নয়, মেয়ে। এ-কথা জানাজানি হয়ে গেলে বেশ বড়োসড়ো ঝামেলা লেগে গেল। অনেকে বিদ্রোহী হয়ে উঠল। কোটি পুরুষ থাকতে একটি মেয়ে কখনোই এতগুলো মানুষকে শাসন করতে পারে না। এটা হতে দেওয়া যায় না।
অতঃপর শুরু হলো বিদ্রোহ। বেশিরভাগ লোকজন মহারানীর বিপক্ষে চলে গেল। যারা পক্ষে ছিল, তারাও বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারল না। অগত্যা সিংহাসন ছাড়তে বাধ্য হয়ে মহারানী রাতের আঁধারে কোলের শিশুকে নিয়ে পালিয়ে গেলেন। আর ফিরলেন না। কিছুদিন পর জানা গেল, সেই মহারানীর বেওয়ারিশ লাশ রাস্তায় পড়ে থাকতে থাকতে কবর দিয়েছে একদল লোক। কোলের মেয়ে শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। অনেক খোঁজাখোঁজি করে ঘটনার প্রায় চার বছর পর মহারানীর মেয়ের খবর জোগাড় করতে সক্ষম হয়েছিলেন যিনি, তিনিই আজকের দলপতি। আর যেই মেয়েটি মহারানীর পেট থেকে জন্ম নিয়েছিল, সেই মেয়েটিই আমার মা। আমার আপন মা।
সব শুনে আনন্দিত হব না মুখ বেজার করব তা ভেবে না পেয়ে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে আছি। খুশির খবর হলো, আমার মা রাজপরিবারের সন্তান। আর অস্বস্তির বিষয় হলো, তিনি এলিয়েন৷ তার মানে কি আমিও এলিয়েন? কিন্তু আমার বাবা যে মানুষ!
জটিল ব্যাপারস্যাপার রেখে মূল কথায় আসা যাক। আমি আপাতত ক্যামেলিয়াকে নিয়ে যেতে এসেছি৷ কথাটা সোজাসোজি বলেছি। কোনো রকম ভূমিকা নেইনি। দলপতি বিনয়ী ভঙ্গিতে অভিবাদন জানিয়ে বললেন, 'শুধু ক্যামেলিয়া কেন, পুরো জোবেন গোষ্ঠী আপনার জন্য হাজির। হুকুম করুন, আর কী চাই?'
আর কিছু না ভাই, আপাতত ওই পাজি মেয়েটাকে চাই। বলতেই দলপতি সহ বাকিরা মিয়নো হাসি দিয়ে উঠলেন। দু'জন সেনা ক্যামেলিয়াকে আনতে গেল। ফিরে এল শূন্য হাতে। দু'জনে একসঙ্গে একসুরে অদ্ভুত ভাষায় কী যেন বলল। কথাটুকু শুনেই দলপতি ভড়কে গেলেন। খানিক চেঁচিয়ে সবাইকে এদিকে ওদিকে পাঠিয়ে আমাকে বললেন, 'গতকাল ক্যামেলিয়া কিছু লোকজনকে আহত করেছে। কিছু লোক মরেছেও। সেই মৃত একজনের ছেলে ক্ষুব্ধ হয়ে দলবল নিয়ে ক্যামেলিয়াকে তুলে এনেছিল। এখন আপনি তাকে নিতে এসেছেন শুনে সে মেয়েটাকে বন্দিশালা থেকে তুলে নিয়ে গেছে। তবে ভাববেন না। আমার লোকজন শীঘ্রই মেয়েটাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসবে।'
সিংহাসনে বসেও শান্তি পাচ্ছিলাম না। দলপতি স্বয়ং আমাকে বাতাস করছেন। একদল ক্যামেলিয়াকে আনতে গেছে। আরেকদল হতভম্ব হয়ে চেয়ে আছে। ওদের দলপতি আমাকে সিংহাসনে বসিয়ে নিজ হাতে বাতাস করছেন কেন বিষয়টা কিছুতেই মিলিয়ে নিতে পারছে না ওরা। কারণ আমি যে ওদের মহারানীর ছেলে সে-কথা ওরা এখনও শুনতে পায়নি। পেলে হয়তো ওরাও আমার সেবায় ব্যাকুল হয়ে এগিয়ে আসত।
প্রথম দল ফিরে এসেছে। সবার সামনে সেনাপতি টাইপের একজন। সবার মাথা নিচু দেখে দলপতি হুংকার দিলেন, 'কী হয়েছে? সবাই চোরের মতো মুখ লুকাচ্ছো কেন?'
ভীড়ের মাঝখান থেকে একটি কণ্ঠ ভেসে এল। বাংলায় বলেছে, 'মেয়েটাকে পুড়িয়ে ফেলেছে জনাব। আমরা তাকে বাঁচাতে পারিনি।'
'কোন মেয়ে? কাকে পুড়িয়ে মেরেছে?' বলে ধড়মড় করে উঠে দাঁড়াতেই দলপতি আমার কাঁধ ছুঁয়ে বললেন, 'আমরা ক্যামেলিয়াকে বাঁচাতে পারিনি। আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন।'
আমার কেন জানি সন্দেহ হচ্ছিল সবার প্রতি। ওদের মুখভঙ্গি কেমন যেন। একে অপরের দিকে আঁড়চোখে তাকাচ্ছিল আর দলপতির কথায় নিঃশব্দে সায় দিচ্ছিল। সুতরাং কৌতূহল মেটানোর জন্যই ক্যামেলিয়ার পোড়া লাশ দেখতে চেয়েছি। তখন দলপতি বাধা দিয়ে বললেন, 'অপরাধ ক্ষমা করবেন, আপনি ওই দুর্গন্ধযুক্ত পোড়া মাংসপিন্ড দেখলে অসুস্থ হয়ে পড়বেন। আমি জেনেশুনে আপনাকে বিপদে ফেলতে পারব না।'
'কিন্তু আমি শেষবার মেয়েটাকে দেখতে চাই।'
'আমি অপারগ।'
দলপতির সোজা কথায় আমার সন্দেহ এবং কৌতূহল আরো বেড়ে গেল। পেছন থেকে কয়েকজন খুবই সতর্ক পায়ে স্লথ গতিতে এগোচ্ছিল টের পেয়ে চোখের পলকে পকেট নাইফ বের করে দলপতির গলায় বসিয়ে দিলাম৷ অল্প একটু কেটেছে। সামান্য রক্ত বেরিয়েছে। কুচকুচে কালো রক্ত। আমি সতর্কবার্তা দিলাম, 'কেউ সামনে আসবে না। চালাকি করলে এক টানে দলপতিকে জবাই করে ফেলব।'
ততক্ষণে সবাই সতর্ক হয়ে গেছে। দলপতি হাসতে হাসতে বলল, 'টের পেয়ে গ্যাছো চালাক মানুষ? এত নিখুঁত অভিনয় করার পরেও টের পেয়ে গেছ? কিন্তু তাতে কী? আমাকে মেরে ফেললেও তুমি প্রাণ নিয়ে ফিরে যেতে পারবে না।'
'তার মানে এতক্ষণ বলা কথাগুলো সব মিথ্যে? বানানো?'
দলপতি হাহা করে হেসে উঠল, 'সত্যি ভেবেছিলে না কি? তা হলে আমাদের অভিনয় কাজে দিয়েছে!'
'মোটেও দেয়নি। তোমরা খুব বাজে অভিনেতা। ঠিক করে অভিনয় করতে পারলে আমি কখনোই তোমাদের সন্দেহ করতাম না আর তোমরা ধরাও খেতে না।'
'হুম।' শুকনো গলায় নিঃশ্বাস ফেলল দলপতি। 'কিন্তু তুমি বুঝলে কীভাবে?'
'তোমাদের গোষ্ঠীতে মেয়ে বলতে কিছু নেই। সবাই পুরুষ। পাঁচশত বছর আগে তোমাদের গোষ্ঠীতে যত নারী ছিল সবাই কোনো এক রোগে মারা গেছে। তারপর থেকে ধীরে ধীরে তোমাদের গোষ্ঠীর লোকসংখ্যা কমে যাচ্ছে। তোমরা যারা বেঁচে আছো সবার বয়স পাঁচশো বছরের বেশি। এই ক'জন মরে গেলে জোবেন গোষ্ঠী চিরতরে হারিয়ে যাবে। কারণ যেখানে মেয়ে নেই, সেখানে প্রজনন বা বাচ্চা জন্ম দেওয়া সম্ভব না। আর নতুন করে কেউ জন্ম নিচ্ছে না বলেই পুরনোরা হারিয়ে যেতে যেতে একদিন তোমাদের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় চলে আসবে। অথচ তুমি বলেছ, তিন যুগ আগে তোমাদের রানী ছিল। যা সম্পূর্ণ বানিয়ে বলা গল্প।'
'তুমি এতসব জানলে কীভাবে?'
'যার পালক মেয়েকে তুলে এনেছ। সেই ক্যামেলিয়ার নকল বাবা হোলা আমাকে এসব বলেছে। শুনেছি তোমরা নাকি ডেথ ডে কাউন্টারে কী একটা টেকনোলজি সেট করে সেটাকে টাইম মেশিনে রূপান্তর করতে চাও। তারপর পাঁচশো বছর পেছনে গিয়ে গোষ্ঠীর মেয়েদেরকে জটিল রোগ থেকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করার ইচ্ছে আছে।'
'হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমরা তা-ই চাই। সেটাই চাই আমরা। তখনকার অসুস্থ মেয়েদেরকে আমরা সুস্থ করে ফিরিয়ে আনতে চাই।'
'অসুস্থ? তখন মেয়েরা অসুস্থ ছিল না তোমরা ছিলে? কারা ছিল মানসিক রোগী?' প্রশ্ন শুনে মাথা নিচু করে ফেলল দলপতি। আজ থেকে পাঁচশো বছর আগে পুরুষত্ব দেখাতে গিয়ে এবং সবখানে পুরুষের রাজত্ব স্থাপন করতে গিয়ে সব পুরুষ মিলে মেয়েদেরকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছিল। মারতে মারতে সব মেয়ে শেষ হয়ে যাওয়ার পর তাদের বুদ্ধি ফিরেছিল, আরে! মেয়ে না থাকলে আমাদের বংশবৃদ্ধি হবে কীভাবে? এখন তো আমরা বিলুপ্ত হয়ে যাব!
সেই থেকে তারা অভিসপ্ত। সত্যিই তারা দুই কোটি ছিল। তবে তিন যুগ আগে নয়, পাঁচশো বছর আগে। এখন সেটা কমে গিয়ে একশো হবে কি না সন্দেহ আছে।
'তোমরা চাইলে আমি তোমাদেকে ওই ডেথ ডে কাউন্টার মেশিন এনে দিতে পারি। যেটাকে ব্যবহার করে তোমরা টাইম ট্রাভেল মেশিন তৈরি করে ফেলতে পারবে।'
দলপতি আমাকে সতর্ক করে দিয়ে বলল, 'ধোঁকা দিলে খুন করে ফেলব কিন্তু!'
আমি হেসে ফেললাম, 'ভুলে গেলে চলবে না, ছুরি এখনও আমার হাতে। বিপদে আমি নই, তুমি আছো মিস্টার নামহীন জোবেন গোষ্ঠীর দলপতি।'
'আমি ক্যামেলিয়াকে ফিরিয়ে দেব যদি তুমি মেশিনটা আমাদের দাও।'
'তার মানে ক্যামেলিয়া জীবিত আছে?'
'আছে। তাকে আমরা সেফ জায়গায় রেখেছি। আজ রাতেই তাকে খুঁটির সাথে ঝুলিয়ে বেঁধে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা করেছিলাম। সেটা বাতিল করে দিতে পারি।'
'আমি তোমাদেরকে বিশ্বাস করি না।'
'বেশ। তা হলে দ্যাখো।' বলে হাত দিয়ে ইশারা করতেই দু'জনে ছুটে গিয়ে দু'মিনিটের মধ্যে ক্যামেলিয়াকে সঙ্গে নিয়ে এল। তার চোখ বাঁধা। হাত বাঁধা। মুখে টেপ লাগানো। আমি ধীর পায়ে তার সামনে গিয়ে মুখের টেপ খুলে দিতেই সে একদলা থুতু আমার মুখের উপর ছিটিয়ে দিলো। চোখ বাঁধা। হয়তো ভেবেছে জোবেন গোষ্ঠীর কেউ। কিন্তু তার সামনে যে আমি, চোখ খুলে দেওয়ার পর সেটা বুঝতে পেরে বেশ বড়োসড়ো শক খেল সে। নিজের কৃতকর্মের জন্য বিনীত হাসি দিয়ে বলল, 'স্যরি!'
'ইটস্ নট ওকে।'
'রিয়েলি স্যরি। কান ধরে বলছি স্যরি৷ আমি না দেখে আপনার মুখে থুতু...'
'চুপ করুন। আপনি ইচ্ছে করে থুতু দিয়েছেন এটা আমি জানি।'
মেয়েটাকে জ্বালাতে চেয়েছিলাম৷ সত্যিই সে জ্বলছে। দাউদাউ করে জ্বলছে। চোখদু'টো টলমল করছে তার। যেকোনো সময় কান্না করে দিতে পারে।
জোবেন গোষ্ঠীর হাতে ডেথ ডে কাউন্টার মেশিনটা ধরিয়ে দিয়ে ক্যামেলিয়াকে নিয়ে ফিরছি। নির্জন রাস্তায় আমরা দু'জন হেঁটে চলেছি। ক্যামেলিয়া বারংবার কান ধরছে আর বলছে, 'সত্যি বলছি, ট্রাস্ট মি! আমি ইচ্ছে করে করিনি। বিশ্বাস করুন আমাকে! প্লিজ!'
'আপনি স্বেচ্ছায় এরকম করেছেন। এই অপমান আমি কোনোদিন ভুলব না।'
'কীভাবে বললে আপনি বিশ্বাস করবেন? কী করলে আপনি বিশ্বাস করবেন যে...'
'কিছু বলতে হবে না। আপনি আমার মুখে থুতু দিয়েছেন এতেই ঢের হয়েছে। আর অপমানিত হতে চাই না।'
ক্যামেলিয়া এবার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। অভিমানে তার ফরসা মুখটা লাল হয়ে যাচ্ছে। চোখের জল এই বুঝি টপ করে গড়িয়ে পড়ে গেল। ঠোঁটদু'টো কাঁপছে খুব। সে ধরা স্বরে বলে উঠল, 'সত্যিই আমি জেনেশুনে এমন করিনি। বিশ্বাস করুন আমাকে।'
'থাক, আর কৈফিয়ত দিতে হবে না। আপনার জন্য আমি ডেথ ডে কাউন্টার মেশিনটা ওদেরকে দিয়ে এলাম। আর আপনি এই প্রতিদান দিলেন!'
বেচারি ক্যামেলিয়া কাঁদোকাঁদো গলায় বলল, 'আমার খুব কান্না পাচ্ছে এখন। কেন যে আপনি আমাকে বিশ্বাস করতে পারছেন না...' থেমে গিয়ে হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠল, 'মেশিন দিয়ে এসেছেন মানে! ওরা এখন যা খুশি তা-ই করবে!'
কথা শুনে আমি বাঁকা হাসি দিলাম৷ সে বিস্মিত স্বরে বলল, 'হাসছেন কেন?'
'আপনার কি মনে হয় আমি এমনি এমনি ওই মেশিন ওদেরকে দিয়ে এসেছি?'
'তা হলে?'
'একবার পেছনে তাকান।'
ক্যামেলিয়া সত্যি সত্যি পেছনে তাকাল। দেখার মতো কিছু নেই। কেবল অন্ধকার। তবুও সে ভীষণ আগ্রহ নিয়ে চেয়ে রইল। হঠাৎ বিকট শব্দ শোনা গেল। জোবেন গোষ্ঠীর আস্তানার ওদিক থেকে ধোঁয়া উড়ছে। ক্যামেলিয়া চোখ বড়োবড়ো করে আমার দিকে তাকাল, 'আপনি ওই মেশিনে বোম লাগিয়ে দিয়েছিলেন!'
'আমি কিছু করিনি। যা করার যোসেফ করেছে।'
'কিন্তু ওদেরকে মেরে ফেলা কি খুব ইম্পরট্যান্ট ছিল?'
'বাঁচিয়ে রেখে কী লাভ? ঘুরেফিরে ওরা মানুষের ক্ষতি করায় ব্যস্ত হয়ে পড়ত। আর রইল টাইম ট্রাভেল করে মেয়েদেরকে ফিরিয়ে আনার কথা। মেয়েদের প্রতি ওদের দরদ দেখে আমার রাগ হচ্ছিল। আগে যখন পুড়িয়ে মেরেছে তখন কই ছিল এত দরদ? তখন কি একজনের মাথায়ও আসেনি যে মেয়ে হলেও ওরা আমাদের মতোই?'
'বুঝেছি৷ আমি একমত। এমন লোকেরা আর কোনো মেয়ের দেখা পায়নি এটাই ভালো হয়েছে। কিন্তু মিস্টার হেন্ডসাম, আপনি কিন্তু একটা বিষয় ভুলে যাচ্ছেন।'
'কী ভুলেছি?'
'আপনি বলেছিলেন ডেথ ডে কাউন্টারের চেয়েও মূল্যবান কিছু আছে আপনার কাছে।'
'হ্যাঁ, আছে তো।'
'সেটা কী জিনিস? কোনো মেশিন না কি আশ্চর্যজনক কোনো বস্তু?'
'আশ্চর্যজনক তো বটেই।'
'কী সেটা?'
'ভালোবাসা।'
'কীঃ! ভালোবাসা ওই মেশিনের চেয়েও দামি?'
'আলবাত দামি। খাঁটি ভালোবাসার চেয়ে মূল্যবান কিছু এ-জগতে হতে পারে না।'
'রিয়েলি? ঠিক আছে, মেনে নিলাম। তবে তাই দিন।'
'কী দেব?'
'ওই যে, ভালোবাসা।'
'সেটা আবার দেওয়া যায় নাকি?'
'কেন যাবে না? অবশ্যই যায়!'
'কিন্তু কীভাবে?'
তারপর ক্যামেলিয়া আমার কানে ফিসফিস করে যা বলল তা শুনে আমি প্রায় দশ মিনিট তার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে রইলাম। সে হাঁটতে হাঁটতে অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে। অথচ আমি দাঁড়িয়ে আছি। নড়তে পারছি না। যেন আমি আর আমার মাঝে নেই। কিন্তু কেন নেই? কী এমন বলল মেয়েটা? যা শুনে আমি পাথর হয়ে গেলাম?
(সমাপ্ত)
মো. ইয়াছিন
#ডেথ_ডে_কাউন্টার
গত পর্বের লিংক : https://www.facebook.com/100054727422264/posts/471637198003857/?app=fbl