সকাল সকাল পাড়ার এক আন্টি আমার ইন্টারভিউ…
ইয়াছিন নাইম১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিট পড়াসকাল সকাল পাড়ার এক আন্টি আমার ইন্টারভিউ নেওয়া শুরু করছে। প্রথমে বলল, "অ্যাই তুমি কী করো?"
বললাম, "খাই দাই ঘুমাই।"
"আর চাকরিবাকরি?"
"চাকরি একটা করতাম। ছেড়ে দিছি।"
"ওমা! ছেড়ে দিলা কেন?"
বললাম, "যেই বেতন দেয় ওইটাতে পোশায় না। টাকা পাওয়ার পরের দিনই সব খরচ হয়ে যায়। সারা মাস কষ্ট করে চলা লাগে। তাই ছেড়ে দিছি।"
আন্টি ঘোর সন্দেহের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "কত টাকা বেতন পাইতা তুমি?"
"আন্টি, পঁচিশ হাজার। এই টাকা দিয়ে আজকাল কিছু হয়, বলেন?"
দেখলাম আমার প্রশ্ন শুনে আন্টি চিন্তায় পড়ে গেছেন। অনেক্ষণ দনোমনো করে তিনি বললেন, "তুমি কি চণ্ডু খাও?"
"চণ্ডু? সেটা কী জিনিস আন্টি?"
"আরে চণ্ডু চিনো না? আফিম আফিম।"
নিজের দুই গালে দুইটা চড় দিয়ে বললাম, "আসতাগফিরুল্লা আন্টি, আপনি এইসব কী বলতেছেন! আমি আফিম খাইতে যাব কেন?"
"তাইলে কী খাও? মদ, গাঁজা, ফেন্সিডিল?"
"ছি ছি আন্টি এইসব আমি ছুঁয়েও দেখিনাই কোনোদিন।"
"তাইলে এতগুলা টাকা কী করো তুমি? নেশাপানি না করলে একদিনে সব টাকা মানুষ ক্যাম্নে খরচ করে? জুয়া খেলো জুয়া?"
"আন্টি, ছোটোবেলায় ক্রাশ বাজি রেখে জুয়া খেলছিলাম। খেলায় যে জিতবে নির্ধারিত মেয়ে তার ক্রাশ। বাকি সবাই তাকে বোনের নজরে দেখবে। এরপর আর কোনোদিন কিছু বাজি রেখে খেলিনাই।"
"তাইলে টাকা কী করো?"
"জানি না তো আন্টি। এমনিই নাই হয়ে যায়।"
"নাই হয়ে যায় মানে? টাকা কি হাওয়াই মিঠাই, যে আস্তে আস্তে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়?"
দেখলাম আন্টি রেগে যাচ্ছেন। উনার ভাবে মনে হচ্ছে আমি উনার গাঁটের পয়সা খরচ করে ফেলেছি। বললাম, "আন্টি আমি তো এতকিছু জানি না। শুধু জানি আমার হাতে টাকা আসলে সব টাকা খরচ না হওয়া অবধি হাত চুলকায়। যত বেশি টাকাই পাই না কেন সেগুলা খরচ হতে এক দুইদিনের বেশি লাগে না।"
আন্টি আমার খুব কাছে এসে কানেকানে ফিসফিস করে বলল, "শুনো আমি কাউরে বলব না, তুমি শুধু আমারে বলো টাকা কীভাবে শেষ হয়। কোথাও ইনভেস্ট করতেছ নাকি? অ্যাসেট কিনতেছ? ও বুঝছি, ব্যাঙ্কে টাকা জমাচ্ছো! কত টাকা হইছে তোমার?"
এইদিকে আমার ভালো লাগতেছে না। এমনিতেই পকেটে টাকা নাই। তার উপর জরুরি দরকারে আন্টির জামাইর কাছ থেকে কয়দিন আগে পঞ্চাশ হাজার টাকা ধার নিয়ে ক্যাম্নে জানি খরচ করে ফেলছি। অথচ দরকারি কাজটা করাই হয়নাই। টাকাগুলা কীভাবে যে খরচ হয়েছে তা আমি নিজেই জানি না।
আন্টি আমারে খোঁচা দিয়ে আবার জিজ্ঞেস করল, "আরেহ্! আমি কাউরে বলব না তো। তুমি নিশ্চিন্তে আমার সাথে শেয়ার করতে পারো, কত টাকা হইছে তোমার?"
আমি মাথা নিচু করে বললাম, "আসমানের নিচে জমিনের উপরে আমার একটা পয়সাও নাই আন্টি। আমি টাকা জমাইতে পারি না। আমার সব টাকা ক্যাম্নে জানি খরচ হয়ে যায়। ক্যাম্নে খরচ হয় তা জানি না।"
দেখলাম আন্টির মুখ কালো হয়ে গেছে। কিছুটা তফাতে গিয়ে তিনি বললেন, "তুমি ভাবছো আমারে বললে আমি তোমার টাকা নিয়ে নিব? আমাদের কি টাকা কম আছে? তোমার আঙ্কেল কালকেও ব্যাঙ্ক থেকে পাঁচ লাখ টাকা তুলে আনছে। আগে প্রতিদিন সকালে তোমারে অফিসে যাইতে দেখতাম এখন দেখি না তাই এতকিছু জিজ্ঞেস করলাম। এমনিতে মানুষের ব্যাপারে অত খবর জানার ইচ্ছা আমার নাই।"
বলে আন্টি নিজের মতো করে চলে গেলেন। আমার চোখের সামনে আরো একটা সুযোগ ভেসে উঠল। আঙ্কেল কাল রাতে পাঁচ লাখ ক্যাশ এনেছে! তার মানে ধার চাইলে উনি যখন তখন দিতে পারবে! আজ রাতেই আঙ্কেলকে গিয়ে ধরব। কিন্তু এইবার টাকা হাতে পেলে আবুলতাবুল খরচ করব না। বিনা প্রয়োজনে এক টাকা কেন, একটি পয়সাও খরচ করব না। এই আমি প্রতিজ্ঞা করলাম, প্রতিজ্ঞা করলাম, প্রতিজ্ঞা করলাম। তারপরও যদি টাকাগুলা ফাও খরচ হয়ে যায় তাহলে আমার কোনো দোষ নাই। সব দোষ ওই টাকার। টাকা কেন আমার হাতে থাকতে চায় না? আমাকে কি তার পছন্দ হয় না?
মো. ইয়াছিন