ছোটগল্প

আমাদের বাড়িতে একটা দোষী পুকুর আছে

ইয়াছিন নাইম১২ অক্টোবর ২০২৬৮ মিনিট পড়া

আমাদের বাড়িতে একটা দোষী পুকুর আছে।

সেটার ভয়ে বাবা আমাদেরকে নিয়ে ঢাকায় চলে এসেছিলেন।

এখন আবার সেখানে ফিরে যেতে হচ্ছে।

বাবা যদি জানতে পারেন তাহলে ঘর থেকেই বেরোতে দিবেন না। তাই মিথ্যে বলে যাচ্ছি। বাবা জানে কক্সবাজার যাব। কিন্তু যাচ্ছি আমাদের গ্রামে। যেখানে দোষী পুকুরটা বিশ বছর ধরে অপেক্ষায় আছে।


আমি বিয়ে করেছি এক মাস আগে। হানিমুনে কোথায় যাব প্ল্যান করছিলাম৷ আমার স্ত্রী মায়া বায়না ধরল গ্রামের বাড়িতে যাবে। তাকে দোষী পুকুরটার কথা বুঝিয়ে বললাম। তাতে কোনো কাজ হলো না। হাসতে হাসতে বলল,

"এই যুগেও তুমি এসব বিশ্বাস করো? তোমার কি মনে হয়, ওই পুকুর থেকে কোনো অশরীরী বেরিয়ে এসে আমাদেরকে মেরে ফেলবে?"


বড়োবড়ো গাছগাছালিতে ভরা আমাদের বাড়ি।

মাঝখানে টিনের দোচালা ঘর। আশপাশে ফসলি জমির বেশিরভাগই অবহেলায় পড়ে আছে।

একসময় এসব জমিতে গভীর রাতে ঘোড়ার পায়ের আওয়াজ শোনা যেত। ঘরের বেড়ার ফাঁকে চোখ রাখলে দেখা যেত একটা মাথা কাটা মেয়েমানুষ দৌড়ে বেড়াচ্ছে। তার শরীরটা মানুষের। পা দুটো ঘোড়ার।

চাঁদের আলোয় মেয়েটার শরীর চিকচিক করত। সেই দৃশ্য যে একবার দেখেছে, সে নাকি আর কোনোদিন স্বাভাবিক হতে পারেনি। হয় অন্ধ হয়েছে, নাহয় বোবা।

শেষবার দেখেছিলেন আমার পরদাদা। দেখার পরও তিনি স্বাভাবিক ছিলেন।

সবাই ভেবেছিল তিনি বেঁচে গিয়েছেন। গ্রামের মানুষ তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করল। কেউকেউ বলল, একমাত্র তিনিই পারবেন এই অশরীরীর হাত থেকে গ্রামের মানুষকে রক্ষা করতে।

কিন্তু এরপর যা হলো, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি।

ঘটনাটা ঘটল তিনদিন পর। একদিন বিকেলে হঠাৎ রক্তবমি করা শুরু করলেন।

রাতে তার গলার আওয়াজ বদলাতে শুরু করল। রাত যত বাড়ে, ততই বাড়ে তার আর্তনাদ। তবে কোনো মানুষের আওয়াজ নয়। তার গলা দিয়ে বেরোচ্ছিল আহত ঘোড়ার আওয়াজ!

পরদিন সকালে তিনি দুনিয়া ত্যাগ করেন।

তারপর থেকে গ্রামের লোকজন কমতে শুরু করল। অন্ধকার হলেই পুকুর থেকে উঠে আসত সেই মেয়েটা। তারপর সারা গ্রামে দৌড়ে বেড়াত। তার চিৎকারের শব্দে কানে তালা লেগে যেত।


কথাগুলো বলছিলেন দাদি। মাটির চুলায় পিঠা রান্না করছেন তিনি। আমি বসেবসে শুনছিলাম। মায়া আমার কাঁধে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। আকাশে চাঁদের আলো জ্বলছে। ঝিঁঝিপোকার ডাক শোনা যাচ্ছে অনবরত।

দাদি বললেন,

"নাতবউ কি ঘুমায় পড়ছে? ওরে ঘরে রাইখা আসো।"

"ঘুমাচ্ছে দাদি। এখন না উঠাই।"

"উঠাইবা ক্যান? কোলে কইরা দিয়া আসো।"

অবাক হতে তাকালাম। দাদির মুখে মিষ্টি হাসি।

"তোমারই তো বউ। অসুবিধা কী?"

প্রসঙ্গ পাল্টে বললাম, "তারপর কী হলো দাদি?"

"তারপর আর কী, তোমার দাদা ভিনদেশ থেইকা এক কবিরাজ নিয়াইলেন। সেই কবিরাজ পুকুর বাইন্ধা দিলো।"

"পুকুর বাঁধে কীভাবে?"

"ওইটা কবিরাজের হিসাব। পুকুরের চাইর মাথায় চাইরটা নিমগাছ লাগাইয়া, সেই নিমগাছের ডালে একটা কইরা পিতলের তাবিজ ঝুলায় দিলো। যাওয়ার সময় বইলা গেল এই তাবিজ যতদিন আছে, ওই মাইয়া আর পুকুর থেইকা বাইর হইতে পারব না।"

"তারপর কি সত্যিই পারেনি?"

"হ, পারেনাই। তয় তিনদিন পর তোমার দাদা মইরা গেলেন। তারে পাওয়া গেল ওই পুকুরেই। শরীরটা ঢোলের মতো ফুইলা গেছিল।"

"কী সাংঘাতিক!"

"এই ঘটনার পর গেরামের মানুষ দলেদলে ভিনগ্রামে চইলা যাইতে শুরু করল। তোমার বাপে তোমাগোরে নিয়া শহরে চইলা গেল। আমি এই ভিটার মায়া ছাড়তে পারলাম না।"

"দাদি, ওই মেয়েটা কে? আমাদের পুকুরে আসলো কীভাবে?"

দাদি একটা পিঠা আমার হাতে তুলে দিলেন।

"পরে শুনবা।"

"এখন বলো!"

"রাইতের বেলা ওদের নাম মুখে নিতে নাই।"

"কিন্তু সে তো পুকুরে। আমাদের কথা শুনবে না।"

দাদি জ্বলজ্বল চোখে আমার দিকে তাকালেন।

"কেউ যদি ওগো নাম নেয়, পাতালে থাকলেও ওরা শুনতে পায়।"

খেয়াল করলাম দাদির কপাল ঘামছে। ভয়েভয়ে বারবার চারপাশে তাকাচ্ছেন তিনি। জিজ্ঞেস করলাম,

"দাদি, তুমি এত বছর একা এই বাড়িতে থেকেছ। তোমার ভয় লাগেনি?"

"আমার লাইগা ডর নাই। ডর লাগতাছে তোমাগো লাইগা।"

"চিন্তা করো না। ওই মেয়ে পুকুর থেকে আসতেও পারবে না। আমাদের কিছু করতেও পারবে না।"

দাদি ঠোঁটে আঙুল দিয়ে থামিয়ে দিলেন।


একটা প্রশ্ন বারবার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল।

কিন্তু বলব কী না বুঝতে পারছিলাম না। শেষে বলেই ফেললাম,

"আচ্ছা দাদি, এখন যদি কেউ নিমগাছের ডাল থেকে তাবিজ খুলে ফেলে?"

চুলার আগুনে দাদির চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল। বললেন,

"এমন কথা মুখেও আইনো না। বিশটা বছর ধইরা ওরে আটকায় রাখা হইছে। সে যদি ছাড়া পায়, তাইলে কী হইব কেউ জানে না।"


পরদিন মায়াকে নিয়ে ঘুরলাম পুরো গ্রাম।

একসময় এই গ্রামটা ভূতের আতঙ্কে জনশূন্য হয়ে পড়েছিল। এখন আবার লোকজন এসে বসতি গড়তে শুরু করেছে।

মায়া শহরের মেয়ে। প্রথমবার গ্রামের পরিবেশ দেখে তার আনন্দের শেষ নেই।

বাড়ি ফিরতে আসরের সময় হয়ে গেল। মায়া তখনও ক্লান্ত হয়নি। একা একা পুরো বাড়ি ঘুরে দেখেছে।

আমি আর পারছিলাম না। ঘরে গিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলাম।


তখন শোবার প্রস্তুতি নিচ্ছি। মায়া কেমন যেন অদ্ভুত ভঙ্গিতে তাকাচ্ছিল। তার চেহারায় মৃদুমন্দ হাসি। লাজুক ভঙ্গিতে আমার সামনে এসে বলল,

"বলো তো কেমন লাগছে আমাকে?"

কিছুক্ষণ চুপচাপ দেখলাম তাকে। ফের জিজ্ঞেস করল,

"কী হলো? বলো!"

"অনেক সুন্দর লাগছে।"

"থ্যাঙ্কিউ।" বলে বাঁ হাতটা আমার সামনে তুলে ধরল। আর তাতেই আমার বুকের রক্ত হিম হয়ে গেল।

মায়ার হাতে তাবিজের মতো কী একটা বাঁধা। তাড়াতাড়ি বললাম,

"এটা কী জিনিস?"

মায়া হাসিহাসি ভঙ্গিতে বলল, "পুকুরপাড়ে একটা নিমগাছের ডালে ঝুলছিল। এটাকে ব্রেসলেট হিসেবে রাখা যায়। আমার হাতে কেমন লাগছে বলো তো?"

ততক্ষণে আমার শরীর থরথর করে কাঁপতে শুরু করেছে। চেঁচিয়ে বললাম, "বোকা মেয়ে, এটা কী করলে তুমি?"

"ওমা! কী করেছি?"

ঠিক তখনি কানে এলো শব্দটা। একটা ঘোড়া ছুটে চলার শব্দ। মনে হলো বাড়ির খুব পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে। দাদির ঘর থেকে চিৎকার ভেসে এলো,

"হায় আল্লারে! এই সর্বনাশ ক্যাম্নে হইলো রে!"

তারপর দাদি জোরেজোরে আয়াতুল কুরসি পড়তে শুরু করলেন। আমি দুহাতে মায়াকে জড়িয়ে ধরলাম৷ মেয়েটা এখনও বুঝেনি বিষয়টা। শুধু হতবাক ভঙ্গিতে তাকাচ্ছে আমার দিকে।

টিনের চালে ছোটো একটা ঢিল পড়ার শব্দ হলো। তারপর শুরু হলো তাণ্ডব। শিলাবৃষ্টির মতো পড়তে শুরু করল ইট, কংক্রিটের টুকরো। সাথে যোগ হলো অতিমানবিক কান ফাটানো চিৎকার।

চিৎকারটা একবার ঘরের ডান পাশ থেকে আসে। তারপর ঘোড়াটা যেন বাঁ দিকে ছুটে যায়। তখন শব্দটা বাঁ দিক থেকে আসে। দাদি পাশের ঘর থেকে চিৎকার দিয়ে বলেন,

"মাচায় কোরআন শরিফ রাখা আছে। ওইটা হাতে রাখ। আয়াতুল কুরসি পড়। তোরা আয়াতুল কুরসি পড়।"

শুরু করলাম জোরেজোরে পড়া। এই প্রথম মায়ার চেহারায় আতঙ্ক দেখা গেল। শক্ত করে ধরল আমাকে। কাঁপাকাঁপা গলায় বলল,

"এসব... এসব কী হচ্ছে রাফি?"

জবাব না দিয়ে আয়াতুল কুরসি পড়ে যাচ্ছি। ওদিকে ঘরের সাথে লাগোয়া কদম গাছটা মটমট করে ভাঙার শব্দ শোনা যাচ্ছে। দাদি চেঁচিয়ে বললেন,

"ওরে তোরা খাটের নিচে লুকা। গাছ ভাইঙ্গা ঘরের উপ্রে পড়ব।"

আর সময় নষ্ট করলাম না। খাটের নিচে গা ঢাকা দিলাম দুজনে। মায়া আমার বুকের সাথে লেপে থরথর করে কাঁপতে লাগলো। এরই মধ্যে ঘরের উপর মটমট করে ভেঙে পড়ল বিশাল কদম গাছটা।


পরদিন সকালে দাদির নিষ্প্রাণ দেহ বের করে আনা হলো। গাছ পড়ে ঘরটা দুমড়ে মুচড়ে গেছে। খাটের নিচে থাকায় আমরা বেঁচে গেছি। কিন্তু দাদির রক্ষা হয়নি।

গ্রামের লোকজনকে নিয়ে দাদির দাফন সম্পন্ন করলাম৷ তারপর আর গ্রামে থাকা চলে না। বিকেল হওয়ার আগেই ঢাকার গাড়িতে উঠলাম।


বাবা রাগে ফুঁসছিলেন। দাঁত কটমট করে বললেন,

"বউমাকে গ্রামে দিয়ে আয়।"

মায়া জ্বরে কাঁপছে। দুহাতে জড়িয়ে রেখেছে আমাকে। বললাম,

"এটা কী বলছো বাবা?"

মা বলে উঠলেন, "তোর বাবা ঠিকই বলেছেন। বউমাকে যদি গ্রামে দিয়ে না আসিস, তবে সে এখানে চলে আসবে।"

লাফিয়ে উঠে বসল মায়া। জড়িয়ে ধরল আমাকে,

"আমি যাব না। কোথাও যাব না।"

"না গেলে সে চলে আসবে।"

"কে চলে আসবে বাবা?"

"যার ভয়ে বিশ বছর আগে গ্রাম ছেড়েছিলাম। যদি ভালো চাস, বউমাকে দিয়ে আয়।"

"অসম্ভব। আমি জেনেশুনে আমার স্ত্রীকে বিপদে ফেলতে পারি না।"

"আমিও চাই না বউমার কোনো ক্ষতি হোক। কিন্তু সত্যিটা এই যে, বউমা যদি না যায় তবে সে আসবে। তখন আমরা তো মরবই, সাথে আমাদের আশেপাশের মানুষদেরও ক্ষতি হবে।"

তারপর মায়ার দিকে চেয়ে বললেন,

"বউমা, তুমি কি চাও তোমার কারণে এত মানুষের ক্ষতি হোক?"


পরদিন গ্রামে ফিরলাম আমরা তিনজন।

আমি, বাবা আর মায়া।

দূর গ্রাম থেকে একজন ওঝাকে আনা হলো।

তিনি নাকি জিনেদের কথা শুনতে পারেন৷ জিনেরাও তার কথা মেনে চলে। কিন্তু বাড়িতে এসেই বললেন,

"এটা কোনো জিনের কাজ না। অন্যকিছু।


রাতে আমরা তিনজন ঘরে বসেবসে আয়াতুল করসি পড়ছি।

বাইরে ওঝা বসে ছিলেন। হঠাৎ ঘোড়ার পায়ের আওয়াজ শোনা গেল। আওয়াজটা ছুটতে ছুটতে উঠানে এসে থেমে গেল। একটা মেয়েমানুষের গলা শোনা গেল স্পষ্ট। সে যা বলল তা হলো এমন,

সাল ১৯৭১

চারদিকে তখন যুদ্ধ চলছে পুরোদমে।

পুতুল তখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মিলিটারিরা খবর পেল পুতুলের স্বামী মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছে।

এক রাতে পুতুল শ্বাশুড়ির ঘরে ঘুমাচ্ছিল। হঠাৎ দরজায় আইনুলের গলা। আইনুল প্রভাবশালী লোক। তার উপর চিহ্নিত রাজাকার। তার উপস্থিতি টের পেয়ে পুতুলের কলিজা শুকিয়ে গেল।

শাশুড়ি পুতুলকে পেছনের জানালা দিয়ে ঠেলে বের করে দিলেন। কিন্তু তিনি জানতেন না দুজন মিলিটারি ইতোমধ্যে সেদিকে দাঁড়িয়ে ছিল।

রাতভর চলল নির্যাতন। ওদের একটাই কথা, পুতুল যেন তার স্বামী আর বাকি মুক্তিযোদ্ধাদের ঠিকানা বলে দেয়।

শেষরাতের দিকে, পুতুলের জিহ্বা বেরিয়ে আসতে শুরু করল। পায়ে ধরে পেটের বাচ্চার জীবন ভিক্ষা চাইল সে। তবুও ওরা ছাড়ল না। পুতুলের একটা প্রিয় ঘোড়া ছিল। কুচকুচে কালো ঘোড়া। সেটাকে মারল পুতুলের সামনেই।

তারপরও যখন পুতুল মুখ খুলল না, তখন তার মাথাটা আলাদা করে ফেলল। বস্তায় ভরে পুঁতে ফেলল পুকুরের তলায়।

পুতুলের শাশুড়িকে পাওয়া গেল ধানক্ষেতের মাঝখানে। বিবস্ত্র, বিচ্ছিরি অবস্থায়। স্বামীও হলো শহিদ। রাজাকার আইনুল মরেছে কলেরায়।

তারপর থেকে পুতুল গ্রামে ঘুরেবেড়ায়।


আমরা ঘরের ভেতর থেকে সব শুনছি। ঘরের বাইরে মেয়েটা হাউমাউ করে কাঁদছে। কাঁদতে কাঁদতে বলছে,

"আমি পারিনি প্রতিশোধ নিতে। ওই আইনুল তার আগেই মরেছে।"

"এখন তুমি কী চাও?" জিজ্ঞেস করলেন ওঝা।


পরদিন সকালে হলো সিদ্ধান্তটা।

মায়া নামবে পুকুরে। ডুব দিতে হবে গভীরে।

মায়ার বদলে আমি ডুব দিতে চাইলাম। ওঝা মানলেন না। মায়া যেহেতু নিমগাছ থেকে তাবিজটা খুলেছে, কাজটা তাকেই করতে হবে।

মায়া প্রথমে নামল হাঁটু পানিতে। তারপর কোমর। তারপর বুক পর্যন্ত পানির নিচে। একবার ফিরে তাকালো আমার দিকে। তার চোখদুটো ছলছল করছিল। বাবা আমার কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দিলেন।

মায়া যখন পুরোপুরি ডুবে গেছে, তখনও চুলগুলো ভাসছিল। কিছুক্ষণ ভাসতে ভাসতে চুলও হারিয়ে গেলে পুকুরের টলটলে জলের গভীরে।


প্রায় ত্রিশ সেকেন্ড পর পানির নড়াচড়া শুরু হলো।

পুকুরের টলটলে জলের ভেতর থেকে উঠে এলো মায়া। তার হাতে অনেক পুরনো, প্রায় নষ্ট হয়ে যাওয়া প্লাস্টিকের বস্তা। সেটার ভেতরে পুতুলের মাথার খুলি। শরীরের কিছু হাড়।

ভেজা শরীরে মায়া আমাকে জড়িয়ে ধরল। তারপর সবার সামনেই হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করল।

"আমি পেরেছি রাফি! আমি আনতে পেরেছি।"


সেদিনই পুতুলের জানাজা পড়া হলো।

কবর দেওয়া হলো পুকুরের পাশে। নাম ফলকে লিখে দিলাম,

বীরাঙ্গনা পুতুল বানু

স্বামী : শহিদ মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম

বীরাঙ্গনা

ইয়াছিন নাইম

সমাপ্ত
ইয়াছিন নাইম

লেখা

ভৌতিক ও অতিপ্রাকৃত ধারাবাহিক গল্পের লেখক

ফেসবুকে মূল পোস্ট

আরও গল্প

এমন আরও কিছু

সব গল্প
ছোটগল্প

কালকে এক রিকশাওয়ালা মামা বলতেছে

কালকে এক রিকশাওয়ালা মামা বলতেছে, "মামা, বিয়া করছেন?" বললাম, "না।" আমার দিকে অদ্ভুত ভঙ্গিতে তাকালো। "বিয়া করেন নাই? তাইলে তাড়াহুড়া কইরা বাসায় যাইয়া কী করবেন?" "বউ ছাড়া কোনো কাজ থাকতে পারে না?" "কী যে কন না মামা! বউয়ের চাইতে বড়ো…

১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিট পড়া
ছোটগল্প

একটা লোক আমার স্ত্রীর নাম্বারে প্রতিদিন…

একটা লোক আমার স্ত্রীর নাম্বারে প্রতিদিন ফোন দেয়। ফোনটা সাইলেন্ট করা থাকে। যাতে আমি টের না পাই। আমার মনে হয় মেহেরজান রাতে ঘুমায় না। চোখ বন্ধ করে কল আসার অপেক্ষা করতে থাকে। এত রাতে সে কার সাথে কথা বলে? আর ওই নাম্বার "বাবা" নামে সেইভ করা…

১৩ অক্টোবর ২০২৬৭ মিনিট পড়া
ছোটগল্প

বড়োআপার বিয়ে আটকে আছে অনেকদিন ধরে

বড়োআপার বিয়ে আটকে আছে অনেকদিন ধরে। লোকে বলে এর পেছনে জিনের হাত আছে। আপাকে কেউ সন্দেহ করে না। শুধু আমি জানি আপার সমস্যার কথা। এমন এক সমস্যা, যেটা কেউ কোনোদিন কল্পনাও করতে পারবে না। ব্যাপারটা আমি লক্ষ করি এক মাস আগে। তখন আপার…

১১ অক্টোবর ২০২৬৬ মিনিট পড়া